মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৪:৩৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ফিলিস্তিনের সেই কিশোরীকে স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর আবেগঘন বার্তা বরিশাল রেড ক্রিসেন্টে চিকিৎসকের অবহেলায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ বরিশালে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেত্রীর গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে ত্রিমুখী সংঘর্ষে রিকসা চালক নিহত, আহত-১০ আন্দোলনে সমর্থন দেয়ার পরদিনই ছাত্রদের ঘরে ফেরার বার্তা সালমান খানের পদত্যাগ করলেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন মৌলভীবাজারে জলপ্রপাতে আটকা পড়া ১০ পর্যটক উদ্ধার গৌরনদীর মহিলা মাদ্রাসার আবাসিক রুম থেকে ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬ এগিয়ে এসে মেসিকে জড়িয়ে ধরলেন ইয়ামাল, হৃদয় ছুঁয়ে গেল দুই প্রজন্মের আলিঙ্গন

কুয়াকাটায় ভাসমান জেলেদের মাথা গোঁজার ঠাঁই চান আদর্শ গ্রামের বাসিন্দারা

সুনান বিন মাহবুব, পটুয়াথালী
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২১
  • ৪৯২ বার

পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় ভাসমান জেলেদের স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে সাগর পাড়ে সরকারি ১ নাম্বার খাস খতিয়ান ৫১৭৮ দাগের জমিতে আদর্শ গ্রাম উপহার দিয়েছিলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু ১৫ নভেম্বর ২০০৭ সালে ঘুর্ণিঝড় সিডরের তান্ডবে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় আদর্শ গ্রাম। প্রায় ৫০ টি পরিবারের বসবাস ছিল এই গ্রামটিতে।

 

জানা যায়, সিডর পরবর্তী সময়ে মানবিক সহায়তা দানকারী সংস্থা রেড ক্রিসেন্টের সহায়তায় আদর্শ গ্রামের বাসিন্দারা পূনর্বাসিত হয় কুয়াকাটার বিভিন্ন জায়গায়। কিন্তু তারা পূনর্বাসিত ঘর ফেলে রেখে বসবাস করেন সাগর পাড়ে।

 

এই বিষয়ে সরেজমিন আলাপকালে উক্ত গ্রামের বাসিন্দা মোসলেম আকন বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের অসহায় দেখে ২০০১ সালে কুয়াকাটায় সরকারী ১ নাম্বার খাস খতিয়ানে ৫১৭৮ দাগে বেরিবাধের পাশে জায়গা দিয়েছিলেন স্থায়ীভাবে বসবাস করার জন্য।

 

কিন্তু তখনকার ক্ষমতাসীন ব্যক্তিরা আমাদের সরলতার সুযোগ নিয়ে সাগর পাড়ে ঝুঁকির মধ্যে বাস করার ব্যবস্থা করে দেন। এরপর ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর সিডরে আমাদের সব কিছু নিশ্চিহ্ন করে দেয়।

 

সিডর পরবর্তীতে রেডক্রিসেন্ট যে ঘর করে দিয়েছেন তা আমাদের ইনকামের একমাত্র উৎস মাছ ধরার স্থান থেকে অনেক দূরে। আসা যাওয়ায় প্রায় একশ টাকা থেকে দুইশ টাকা খরচ হয়। আমরা সাগরে কোনদিন মাছ পাই আবার কোনদিন পাইনা। স্ত্রী সন্তান নিয়া দুইবেলা খেয়ে যাতে বাঁচতে পারি সেই জন্য রেডক্রিসেন্টের ঘর ফেলে সাগরপাড়ে থাকি”।

 

এ বিষয়ে ২০০১ সালে ক্ষমতায় থাকা ইউপি চেয়ারম্যান বারেক মোল্লার সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, “সে সময়ে আদর্শ গ্রাম যেখানে দেয়া হয়েছিল সেখান থেকে সাগর প্রায় এক কিলোমিটার দূরে ছিল। গ্রামটি যে এভাবে প্রাকৃতিক দূর্যোগে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে তা সবার কল্পনাতিত ছিল”।

 

আদর্শগ্রামের আরেক বাসিন্দা মোঃ বাবুল পহলান বলেন, “রেড ক্রিসেন্ট থেকে যে ঘর পেয়েছি তা বসবাস করার মতো না। ছেলে মেয়ে পড়ালেখার কোন সুযোগ নাই। অসুস্থ হলে হাসপাতাল নিয়ে যাওয়ার রাস্তা নাই”।

 

মোঃ মোজাম্বেল বলেছেন, “যখন আদর্শ গ্রামের ঘরগুলো আমাদের দেয়া হয়েছিল তখন থেকে ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছিলাম। প্রভাবশালীরা আমাদের তখন প্রতিবাদ করার সুযোগ দেয়নি”।

 

এদিকে, আদর্শ গ্রামের বাসিন্দারা দাবী তুলেছেন, সরকারি ১নং খাস খতিয়ান ৫১৭৮ দাগে বেরিবাধের বাহিরে ঝুঁকিপূর্ণ জায়গা বরাদ্দ দেয়ার কারনে সিডরে উক্ত গ্রামটি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। এখন দালিলে উল্লেখিত দাগে বেরিবাধের ভিতর যে জমি আছে সেখানে দলিল অনুযায়ী প্রত্যেকের নামে বি এস করে দেয়া হোক।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2021 anondobarta24.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com