বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ০২:১৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
জাপানে শক্তিশালী ভূমিকম্পে বিস্ফোরণ-ধস-আগুন, বহু হতাহতের আশঙ্কা জনগনের ওপরে যারা ক্ষমতা প্রদর্শন করবে তারা দলের শত্রু : তথ্যমন্ত্রী ফিলিস্তিনের সেই কিশোরীকে স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর আবেগঘন বার্তা বরিশাল রেড ক্রিসেন্টে চিকিৎসকের অবহেলায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ বরিশালে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেত্রীর গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে ত্রিমুখী সংঘর্ষে রিকসা চালক নিহত, আহত-১০ আন্দোলনে সমর্থন দেয়ার পরদিনই ছাত্রদের ঘরে ফেরার বার্তা সালমান খানের পদত্যাগ করলেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন মৌলভীবাজারে জলপ্রপাতে আটকা পড়া ১০ পর্যটক উদ্ধার গৌরনদীর মহিলা মাদ্রাসার আবাসিক রুম থেকে ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার

আটঘরিয়ায় অসময়ে বৃষ্টিতে আমন ধান ও রবি শস্যের ক্ষতি

মো. জিল্লুর রহমান রানা, পাবনা
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৫ নভেম্বর, ২০২১
  • ১৯৯ বার

বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের প্রভাবে গত শুক্রবার রাত থেকে রবিবার রাত পর্যন্ত টানা বৃষ্টি ও বাতাস বয়ে গেছে। এতে শত শত হেক্টর জমির কাঁচা-পাকা আমন ধানের গাছ নুয়ে পড়েছে। পানি দ্রুত না সরলে ধানের বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা। এদিকে আসন্ন রবি শস্য বপন করেছিল সেইসব জমিতেও পানি বদ্ধ হয়ে ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছে কৃষকরা।

 

তবে কৃষি বিভাগ বলছে, আটঘরিয়া উপজেলায় যে পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে, তাতে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা খুব একটা নেই।

 

কৃষকেরা জানান, শুক্রবার রাত থেকে পাবনার আটঘরিয়ায় টানা বৃষ্টি শুরু হয়। মাঝেমধ্যে বৃষ্টির সঙ্গে চলে দমকা হাওয়া। কখনো গুঁড়ি গুঁড়ি, কখনো প্রবলবেগে বৃষ্টি হয়। সোমবারও রোদের দেখা মেলেনি। এতে আমন ও রবি ফসলের খেত পানি জমা হয়ে গেছে।

 

সোমবার সরেজমিনে দেখা যায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মাঠঘাটে পানি বেঁধে গেছে। কেটে রাখা আমন ধানের ক্ষেতে পানিবদ্ধ হওয়ায় ঘরে আনতে পারছেন না। অনেক এলাকায় ধানগাছ মাটিতে নুয়ে পড়েছে। দুই একটা ছাড়া প্রায় সব ক্ষেতের ধানই মাটিতে হেলে পড়েছে।

 

উত্তরচক এলাকার আবু দাউদ ৪বিঘা জমিতে রবি শস্য সরিষা আবাদ করেছেন। হঠাৎ বৃষ্টি হওয়ায় সদ্য গজানো সরিষার জমিতে পানি বেঁধে গেছে। এতে আমার বপন করা সরিষা নষ্ট হয়ে যাবে।

 

ধলেশ্বর গ্রামের কৃষব মো. আক্তার হোসেন বলেন, ১০ দিন পর ক্ষেতের ধান কাটার কথা ছিল। কিন্তু বৃষ্টির কারনে তার ক্ষেতের ধানগাছ মাটিতে নুয়ে পড়েছে। তাতে ফলন পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে আশঙ্কায় আছেন তিনি। আক্তার হোসেন আরও বলেন, ‘কত কষ্ট করে আমরা আবাদ করেছি। আর যখন কাটার সময় হলো, তখন পাকা ধানে মই দিয়ে গেল বৃষ্টি। এলাকার প্রায় সব ক্ষেতের ধানের একই অবস্থা বলে জানান আক্তার।

 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সূত্রে জানা যায় উপজেলায় এএবছর ৮ হাজার ২১০ হেক্টর জমিতে রোপা-আমন ধানের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে উপশি ৭ হাজার ৭শ, হাইব্রিড ৪০০ ও স্থানীয় জাতের ১১০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে।

 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সজীব আল মারুফ বলেন, বৃষ্টিতে আমন ধান ছাড়াও শীতকালীন আগাম সবজি এবং আগাম সরিষা জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জমি থেকে পানি নেমে গেলে সবজির ক্ষতির আশঙ্কা নেই। তবে মুলাজাতীয় সবজি নষ্ট হয়ে যেতে পারে। বৃষ্টির কারণে উপজেলায় ফসলের কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, তা কয়েক দিনের মধ্যে নিরূপণ করা সম্ভব হবে।

 

আটঘরিয়ায় ব্র্যাকের উচ্চ ফলনশীল ধান বীজ কিনে প্রতারিত কৃষক আটঘরিয়া (পাবনা) প্রতিনিধি ব্র্যাকের উচ্চ ফলনশীল ধান বীজ (হাইব্রিড) কিনে প্রতারণার শিকার হয়েছে পাবনার আটঘরিয়ার শতাধিক কৃষক। নিম্নমানের বীজের কারণে বিঘা প্রতি ফলন হচ্ছে ৪ থেকে ৫ মণ।

 

এ অবস্থায় উৎপাদন খরচ তোলা নিয়ে দিশেহারা কৃষকরা। এ দায় নিতে নারাজ ব্র্যাক। কৃষি বিভাগ বলছে, চাষিদের লোকশান পুষিয়ে নিতে কাজ করছেন তারা। পাবনার আটঘরিয়ার সঞ্জয়পুর গ্রামের কৃষক জমসের আলী। ব্র্যাকের উচ্চ ফলনশীল জাতের হাইব্রিড-১০ ধানের বীজ কিনে এক বিঘা জমিতে চাষ করেছে তিনি কিন্তু ধানের ফলন হয়েছে বিঘায় ৪ থেকে ৫ মণ।

 

শুধু জমসের আলীই নয় তার মতো কয়েকশত কৃষক এই বীজ কিনে প্রতারিত হয়েছেন। জমসেদ আলী বলেন, ব্য্যাক থেকে দুই কেজি ধান বীজ কিনে তাদের কথায় চাষ করেছিলাম। খরচ হয়েছে ১০ হাজার টাকা। ৫ হাজার টাকা সারের দোকানে বাঁকি আছে। ধান হয়েছে ৫মণ। এখন আমি খাবই নাকি দোকানের বাঁকি দিব।

 

সঞ্জয়পুর ক্লাব পাড়া দিলবার হোসেন বলেন, ব্র্য্যাক বলেছিলো প্রতি বিঘায় ২৫ থেকে ৩০ মণ ধান হবে। এক কেজি ধান বীজ কিনে রোপন করেছি ধান হয়েছে বিঘায় ৩ থেকে ৪ মন। ইসমাঈল আজম বলেন, আমাদের দেশীও ধান থেকে ৮০ থেকে ৮৫ ভাগ এই ধানে রোগ বালাই বেশী এই ব্র্যাকের বীজে। আর আগাছার কারণে ধানে চিটা হয়ে গেছে। এখন আমরা কার কাছে যাব।

 

সিফাতের ঢালু এলাকার রওশন আলী বলেন, আমরা কৃষি অফিসারের কাছে অভিযোগ করেছি তারাও কোন কিছু বলেনি। এখন ব্র্যাকে য ক্ষতি করেছে তার প্রতিকার চাই। এদিকে ব্র্যাক অফিস ঘিরে মঙ্গলবার বিক্ষোভ করেছেন কৃষকরা। এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি ব্র্যাক আটঘরিয়া শাখার ফার্ম, ম্যানেজার আবুল কালাম আজাদ।

 

আটঘরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার সজীব আল মারুফ বলেন, ব্র্যাক ধান চাষ করেছে। কৃষকরা আমাদের কাছে অভিযোগ করায় মাঠ পরিদর্শন করা হয়েছে। তিনি বলেন, মাঠে গিয়ে দেখা যায় জমিতে বিজাত ধান ও ধানে ব্যাপক চিটা হওয়ায় কৃষরা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

 

তাদের উৎপাদন খরই উঠবে না। তবে ব্র্যাক কর্তৃপক্ষ আমাদের কাছে সময় চেয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানাযায়, এবছর ৮ হাজার ২১০ হেক্টর জমিতে রোপা-আমন ধানের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে উপশি ৭ হাজার ৭শ, হাইব্রিড ৪০০ ও স্থানীয় জাতের ১১০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2021 anondobarta24.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com