মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৬:১৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ফিলিস্তিনের সেই কিশোরীকে স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর আবেগঘন বার্তা বরিশাল রেড ক্রিসেন্টে চিকিৎসকের অবহেলায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ বরিশালে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেত্রীর গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে ত্রিমুখী সংঘর্ষে রিকসা চালক নিহত, আহত-১০ আন্দোলনে সমর্থন দেয়ার পরদিনই ছাত্রদের ঘরে ফেরার বার্তা সালমান খানের পদত্যাগ করলেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন মৌলভীবাজারে জলপ্রপাতে আটকা পড়া ১০ পর্যটক উদ্ধার গৌরনদীর মহিলা মাদ্রাসার আবাসিক রুম থেকে ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬ এগিয়ে এসে মেসিকে জড়িয়ে ধরলেন ইয়ামাল, হৃদয় ছুঁয়ে গেল দুই প্রজন্মের আলিঙ্গন

জীবন যুদ্ধে হার না মানা আলো রাণীর গল্প

কাওছার আহমেদ, মানিকগঞ্জ
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ৫৫৮ বার

জন্ম হয় অভাবি বাবার সংসারে। অভাবের কারণে যেখানে দু’বেলা ভাত জোটেনা সেখানে আবার পড়াশোনা! তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে আলো রাণী মনি দাস বড়। তাই অল্প বয়সেই বাবা বিয়ে দিয়ে দেন মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার দরগ্রাম ইউনিয়নের নওগাঁ গ্রামের এলাকার দিন মজুর গোপিনাথ চন্দ্র দাসের সঙ্গে।

 

বিয়ের পর স্বামীর সংসারেও অভাব ও কষ্ট লেগেই থাকতো। দিনমজুর স্বামীর উপার্জনে দু’বেলা খেয়ে না খেয়ে কোনো রকম বেঁচে থাকাটাই বড় কষ্টের। এরই মধ্যে সংসারে একে একে তিন সন্তান জন্ম নেয়। সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে স্বামীর পাশাপাশি নিজেও বাঁশের ঝুড়ি তৈরি শ্রমিকের কাজ শুরু করেন।

 

পরিশ্রমের কাজ হলেও নিজ বাড়িতেই ছোট পরিসরে প্রতিদিন ঝুড়ি তৈরি করছেন তিনি। বর্তমানে এ বাঁশের ঝুড়ি তৈরির বয়স প্রায় ত্রিশ বছর। শনিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) আলো রাণী (৫০) এভাবেই মেলে ধরেন নিজের সংগ্রামী জীবনের গল্প।

 

তিনি বলেন, সংসারের পাশাপাশি ঝুড়ি, পলো, কুলাসহ বিভিন্ন ধরণের বাঁশের তৈরি নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস তৈরি করা হয়। দূরদুরান্ত থেকে দেখতে মানুষ হাতের কাজ দেখে সুনাম করেন। আলো রাণী অত্র এলাকায় বেশ সুনাম অর্জন করেছে। প্রতিদিন গড়ে ৭ থেকে ১০ ঝুড়ি তৈরি করেন তিনি। প্রকারভেদে প্রত্যেকটি ঝুড়ি ৫০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি করা হয়।

 

আলো রাণী বলেন, সন্তানরা সবাই বিয়ে করে তারা তাদের মতো নিজেদের সংসার নিয়ে ব্যস্ত। বাঁশের ঝুড়ি থেকে প্রতিদিন সব খরচ বাদ দিয়ে যা আয় হয় তা দিয়ে সংসার-চিকিৎসা খরচ হয়েও অবশিষ্ট টাকা সঞ্চয় করেন। যা আগে সন্তানদের পেছনে খরচ করতেন। স্থানীয় বাসিন্দা ঠান্ডু মিয়া বলেন, আলো রাণী দীর্ঘদিন এখানে বাঁশের কাজ করছেন। তার কদর আশপাশের এলাকায়ও রয়েছে।

 

জাহানারা নিজেই তৈরি করে দেন ঝুড়ি। ক্রেতাদের সন্তষ্ট করে ধরে রাখতে সকল ধরণের বাঁশের কাজ করেন তিনি। সাটুরিয়া থেকে দেখতে আসা উজ্জল মিয়া বলেন, এখানে এসে সব কিছু ঘুরে দেখে খুবই ক্লান্ত লাগছিলো। আলো রাণীর কাজ দেখে খুবই ভালো লাগলো। আলো রাণীর স্বামী গোপিনাথ দাস বলেন, বিভিন্ন গ্রাম থেকে বাঁশ সংগ্রহ করে প্রক্রিয়াজাত শেষে বিভিন্ন ধরণের ঝুড়ি তৈরি করা হয়।

 

প্রকারভেদে প্রত্যেকটি ঝুড়ি ৫০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি করা হয়। সাটুরিয়া উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শিউলি আক্তার বলেন, সমাজে অধিকাংশ নারীরাই সংগ্রাম করে জীবন যাপন করছে। আলো রাণী তাদেরই একজন। ওই নারী আবেদন করলে উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে তাকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাকে আর্থিক সহযোগিতা করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2021 anondobarta24.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com