বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ০১:২৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
জাপানে শক্তিশালী ভূমিকম্পে বিস্ফোরণ-ধস-আগুন, বহু হতাহতের আশঙ্কা জনগনের ওপরে যারা ক্ষমতা প্রদর্শন করবে তারা দলের শত্রু : তথ্যমন্ত্রী ফিলিস্তিনের সেই কিশোরীকে স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর আবেগঘন বার্তা বরিশাল রেড ক্রিসেন্টে চিকিৎসকের অবহেলায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ বরিশালে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেত্রীর গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে ত্রিমুখী সংঘর্ষে রিকসা চালক নিহত, আহত-১০ আন্দোলনে সমর্থন দেয়ার পরদিনই ছাত্রদের ঘরে ফেরার বার্তা সালমান খানের পদত্যাগ করলেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন মৌলভীবাজারে জলপ্রপাতে আটকা পড়া ১০ পর্যটক উদ্ধার গৌরনদীর মহিলা মাদ্রাসার আবাসিক রুম থেকে ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার

পদোন্নতি পেয়ে অধ্যাপক হলেন হাবিপ্রবি’র রসায়ন বিভাগের ড. মো. আতিকুল ইসলাম

মুরাদ হোসেন, হাবিপ্রবি
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৫ জুন, ২০২৪
  • ১৩৯ বার
সহযোগী অধ্যাপক থেকে পদোন্নতি পেয়ে অধ্যাপক হয়েছেন দিনাজপুরের ফুলবাড়ীর কৃতি সন্তান ও হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষক ড. মো. আতিকুল ইসলাম।
২৪ জুন (সোমবার) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. মো. সাইফুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এটি নিশ্চিত করা হয়।
দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার উত্তর কৃষ্ণপুর গ্রামের মো. সিরাজুল ইসলাম ও মোছা: নাসিমা খাতুন দম্পতির প্রথম সন্তান অধ্যাপক ড. মো. আতিকুল ইসলাম একজন গবেষক ও সমাজসেবক। এলাকায় তিনি রুবেল নামে পরিচিত।
পদোন্নতি পাওয়ায় অনুভূতি ব্যক্ত করে তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাকের দরবারে হাজারো শুকরিয়া যে আমাকে অধ্যাপক হওয়ার যোগ্যতা অর্জনের তৌফিক দান করেছেন।
আমার সকল শিক্ষাগুরু, পরিবারবর্গ, বন্ধুবান্ধব, সহকর্মী ও প্রাণপ্রিয় শিক্ষার্থীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা যারা আমাকে সব সময় সহযোগিতা ও মনোবল দিয়েছেন।
এই দীর্ঘ পথ অতিক্রম করার জন্য সহধর্মিনী ইয়াছমিন আক্তারের প্রতি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আমার এই ক্ষুদ্র অর্জন যেন দেশ ও জাতির জন্য কল্যানকর হয় সেজন্য সবার নিকট দুয়া চাই।
ড. আতিকুল ইসলাম ১৯৯৫ সালে রেজিয়া খাতুন ইনস্টিটিউট থেকে প্রাথমিক শিক্ষাজীবন শেষে ২০০০ সালে সুজাপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে প্রথম বিভাগে এসএসসি ও বীর উত্তম শহীদ মাহবুব সেনানিবাস স্কুল এন্ড কলেজ থেকে প্রথম বিভাগে এইচএসসি পাস করেন। ২০০৮ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় রসায়ন বিভাগ থেকে প্রথম বিভাগে বি.এসসি অনার্স (রসায়ন) এবং ২০১০ সালে প্রথম বিভাগে এম এস (জৈব রসায়ন) পাশ করেন।
বর্ণাঢ্য শিক্ষাজীবন শেষ করে ২০১০ সালে প্রথমে বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানী লিমিটেড এ সহকারী রসায়নবিদ হিসেবে যোগদান করেন। পরে ২০১২ সালে তিনি হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি রসায়ন বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগদানের মধ্য দিয়ে শিক্ষকতা পেশায় পদচারণ করেন।
পরবর্তীতে ২০১৪ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন বিভাগে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করেন। ২০১৮ সালে উচ্চ শিক্ষার জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার চুছান বিশ্ববিদ্যালয়ে পি.এইচ.ডির উদ্দেশ্যে গমন করেন এবং আগষ্ট ২০২১ এ কৃতিত্বের সাথে পি.এইচডি ডিগ্রি সম্পন্ন করে দেশে এসে পদোন্নতি নিয়ে সহযোগী অধ্যাপক পদে পুনরায় রসায়ন বিভাগে যোগদান করেন। একই সাথে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডরমিটরি-২ হলের সহকারী হল সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ড. মো. আতিকুল ইসলাম বাংলাদেশের পাঁচ ধরনের পান পাতার কেমিক্যাল ও বায়োকেমিক্যাল স্টাডিজ এর উপর গবেষণা করে পি.এইচ.ডি ডিগ্রী অর্জন করেন।
বিশেষ কোন রসায়নিক পদার্থের (হাইড্রক্সিকেভিকল, ইউজিনল, বিটা-ক্যারোফিলিন, গামা-মিউরোলিন, ভালেনসিন, ইত্যাদি) জন্য পান পাতা ঔষধিগুন, বিভিন্ন আধুনিক পদ্ধতিতে তা তিনি পরিমাপ করেন। তিনি কয়লা, পানি, বায়ু দূষন, মধু ও দুধের ভেজাল নির্ণয়ের পদ্ধতি, এসেনশিয়াল অয়েল, পান পাতা, পেরিলা পাতা সহ বিভিন্ন বিষয়ের উপর গবেষণা করে দেশি ও বিদেশি খ্যাতনামা জার্নালে ৩০ টি গবেষণা পত্র প্রকাশ করেন এবং সেই সাথে দেশি-বিদেশি বিজ্ঞান বিষয়ক কনফারেন্সে ৪০ টির অধিক গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করেছেন।
বর্তমানে দেশি ও বিদেশি সংস্থার অর্থায়নে মধু ও দুধের ভেজাল নির্ণয়ের জন্য সহজ পদ্ধতি উদ্ভাবন, এসেনসিয়াল ওয়েলের নিষ্কাশন পদ্ধতি, দিনাজপুর শহরের বায়ু দূষন এবং বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎ কেন্দ্রের আশে পাশে মাটি ও খাদ্যের তেজস্ক্রিয় পদার্থের পরিমাণ নির্ণয় নিয়ে কাজ করছেন।
দক্ষ গ্রাজুয়েট তৈরি সহ বেশকিছু পরিকল্পনা নিয়ে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন অধ্যাপক ড. আতিকুল ইসলাম।
গবেষণা কার্যক্রম নিয়ে তিনি জানান, বাংলাদেশের প্রাকৃতিক জিনিস দিয়ে গুণগত এসেনশিয়াল অয়েল তৈরি করা সম্ভব যা রপ্তানি যোগ্য হবে এবং দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করতে সাহায্য করবে।
এসেনসিয়াল অয়েল থেকে জৈব কীটনাশক তৈরি করা যার প্রয়োগে খাদ্যের গুণগত মান বাড়াবে। এছাড়াও সহজ স্পেকট্রোস্কোপিক এনালাইটিক্যাল পদ্ধতি উদ্ভাবন করার মাধ্যমে আমরা কোন কিছুর গুণগত মান দ্রুত পরীক্ষা করতে পারি।
ড. আতিকুল ইসলাম ২০১১ সালে ইয়াছমিন আক্তার, সহকারী শিক্ষক (চেহেলগাজী শিক্ষা নিকেতন স্কুল এন্ড কলেজ) এর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। বর্তমানে তাদের এক কন্যা (নাফিয়া ইসলাম) ও এক পুত্র (ইয়াফি ইসলাম) সন্তান রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2021 anondobarta24.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com