শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
বরিশালে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল; পটকা বিস্ফোরন! বরিশালে সমকালের সাবেক ব্যুরো প্রধান পুলক চ্যাটার্জির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার বরিশালের সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সের সাথে পরিবহনের সংঘর্ষ, পথচারী নারী নিহত বরিশালের উজিরপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় অজ্ঞাত নারী নিহত বিদুৎপৃষ্টে যুবদল নেতার বাবার মৃত্যু বরিশালে পানিতে ডুবে শিশুর মূত্যু ভূমি অফিসে বরিশাল জেলা প্রশাসনের অ্যাকশন, অনুপস্থিত দুই কর্মচারী স্ট্যান্ড রিলিজ জুলাই সনদ যদি বাস্তবায়ন না হয় তাহলে এমন আন্দোলন গড়ে তোলা হবে যে সরকার টিকতে পারবে না-নাহিদ ইসলাম মহসিন মার্কেটে ভুয়া কমিটির পরিচয়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ প্রতিবাদ করায় ব্যবসায়ী নেতার ওপর হামলা; সংবাদ সম্মেলন অভিযোগ

গৌরীপুরে ৭১’র ২১ আগস্ট পাক-হানাদার বাহিনীর হাতে নির্মম হত্যার শিকার ১৪ জন

মোহাম্মদ সাইফুল আলম, ময়মনসিংহ 
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২১ আগস্ট, ২০২১
  • ৩১৯ বার

মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ১৯৭১ সালের ২১ আগস্ট পাক-হানাদার বাহিনী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের খুঁজতে গিয়ে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার শালিহর গ্রামের ১৪ জন নিরীহ মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করে। এসময় অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করা হয় বেশ কয়েকটি বাড়িতে।

 

পাক-বাহিনী ধরে নিয়ে যায় এ গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আবুল হাসিমের বাবা ছাবেদ হোসেন বেপারীকে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে স্থানীয় লোকজন এ দিনটিকে শালিহর গণহত্যা দিবস হিসেবে পালন করে আসছেন। প্রতিবছর ২১ আগস্ট উপজেলা প্রশাসন, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা, বিভিন্ন সংগঠন ও স্থানীয় লোকজন গণ শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে থাকেন এ বধ্যভূমিতে।

 

স্থানীয় কয়েকজন বীর মুক্তিযোদ্ধা জানান, ১৯৭১’র ২১ আগস্ট পাক-হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসররা রেলযোগে গৌরীপুরে আসে। এদিন তারা স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের খুঁজতে গিয়ে পশ্চিম শালিহর গ্রামে হানা দিয়ে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আবুল হাসিমের বাড়িসহ বেশ কয়েকটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করে। এসময় পাক বাহিনী ধরে নিয়ে যায় মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাসিমের বাবা ছাবেদ হোসেন বেপারীকে।

 

এর আগে ১৬ মে ধরে নিয়ে যায় সাংবাদিক সুপ্রিয় ধর বাচ্চার বাবা মধু সূদন ধরকে। তারা আজো ফিরে আসেন নি।

তাঁরা আরো জানান, পাক বাহিনী অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করে কান্ত হয়নি এ গ্রামের ১৪ জন নিরীহ মানুষকে ধরে এনে শালিহর কদমতলা নামক স্থানে ব্রাস ফায়ার করে নির্মমভাবে হত্যা করে। পরে সেখানেই তাদেরকে কবর দেয়া হয়। পাক-বাহিনীর ব্রাস ফায়ারে গণশহীদরা হলেন- এ উপজেলার ২ নং গৌরীপুর ইউনিয়নের শালিহর গ্রামের মোহিনী মোহন কর, জ্ঞানেন্দ্র মোহন কর, যোগেশ চন্দ্র বিশ্বাস, নবর আলী, কিরদা সুন্দরী, শচীন্দ্র চন্দ্র বিশ্বাস, তারিনী কান্ত বিশ্বাস, খৈলাস চন্দ্র নমদাস, শত্রগ্ন নমদাস, রামেন্দ্র চন্দ্র সরকার, অবনী মোহন সরকার, দেবেন্দ্র চন্দ্র নমদাস, কামিনী কান্ত বিশ্বাস ও রায় চরণ বিশ্বাস।

 

জানা গেছে, ২০০০ সালে সাবেক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী মরহুম ডাঃ ক্যাপ্টেন (অবঃ) মজিবুর রহমান ফকিরের হস্তক্ষেপে উল্লেখিত বধ্যভূমিতে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়। ২০১৮ সালে ময়মনসিংহ জেলা পরিষদ সদস্য এইচএম খায়রুল বাসারের হস্তক্ষেপে স্মৃতিসৌধটি সংস্কার ও তাতে গণ শহীদদের নাম লিপিবদ্ধ করা হয়। চলতি বছর (২০২১) গণপূর্ত বিভাগের অধীনে ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে গণ শহীদদের স্মরণে একটি নতুন স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2021 anondobarta24.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com