মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ফিলিস্তিনের সেই কিশোরীকে স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর আবেগঘন বার্তা বরিশাল রেড ক্রিসেন্টে চিকিৎসকের অবহেলায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ বরিশালে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেত্রীর গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে ত্রিমুখী সংঘর্ষে রিকসা চালক নিহত, আহত-১০ আন্দোলনে সমর্থন দেয়ার পরদিনই ছাত্রদের ঘরে ফেরার বার্তা সালমান খানের পদত্যাগ করলেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন মৌলভীবাজারে জলপ্রপাতে আটকা পড়া ১০ পর্যটক উদ্ধার গৌরনদীর মহিলা মাদ্রাসার আবাসিক রুম থেকে ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬ এগিয়ে এসে মেসিকে জড়িয়ে ধরলেন ইয়ামাল, হৃদয় ছুঁয়ে গেল দুই প্রজন্মের আলিঙ্গন

গাজীপুরে ১২কিলোমিটার সড়কে আর কত ভোগান্তি!

মোঃ রমজান আলী, গাজীপুর
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৫ জুন, ২০২১
  • ৬৮৩ বার

ঢাকা হযরত শাহজালাল আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দর থেকে গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা পর্যন্ত নির্মিত হচ্ছে দেশের প্রথম বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি)। রাজধানীর সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজতর ও স্বল্প সময়ে যাতায়াত করতেই নেয়া হয় এই প্রকল্প। কয়েকদফা সময় বাড়ানোর সাথে বেড়েছে প্রকল্পটির ব্যয়।

তবে বিকল্প সড়কের ব্যবস্থা না করে গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের উপর উন্নয়ন প্রকল্প নেয়ায় কয়েকলাখ মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে বছরের পর বছর ধরে। আর প্রতিবছর বর্ষায় সেই দুর্ভোগ বেড়ে বর্ণহীন ভোগান্তিতে রূপ নেয়।

গাজীপুরের জৈনাবাজার থেকে ঢাকার গুলিস্থান পর্যন্ত প্রতিদিন তিনবার যাওয়া আসা করতেন প্রভাতী-বনশ্রী পরিবহনের চালক বিল্লাল হোসেন। তিনি আনন্দ বার্তাকে  বলেন, কয়েকবছর ধরেই বিআরটি প্রকল্প উন্নয়ন কাজের জন্য সড়কে যানজটের কবলে পড়ে দুর্ভোগ সইতে হচ্ছে।

 

জয়দেবপুর-টঙ্গী ব্রিজ পর্যন্ত ১২কিলোমিটার সড়ক অতিক্রম করতে কিছুদিন আগেও লাগতো দেড় থেকে দুই ঘন্টা। আর এখন সামান্য বৃষ্টি হলেই লাগছে পাঁচ-ছয় ঘন্টা। মিনিট বিশেক সময়ের পথ এই সড়কে অধিক সময় ব্যয় হওয়ায় এখন দিনে একবারের বেশী যাতায়াত করতে পারছেন না তিনি। এ অবস্থা তার মতো সকল পরিবহনেরই।

মহাসড়কে যানজট, তাই একটু রাত করেই উত্তরার উদ্দেশ্যে রওনা দেন ব্যবসায়ী বিল্লাল হোসেন বেপারী। তিনি বলেন, সোমবার রাত ১১টায় ব্যক্তিগত গাড়িতে গাজীপুরের মাওনা চৌরাস্তা থেকে উত্তরার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। তার যেতে যেতে ভোর রাত সাড়ে চারটায় তিনি উত্তরার বাসায় পৌঁছান।

গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার সাবেক কর আদায়কারী মোবারক হোসেন বলেন, গত শনিবার সন্ধ্যায় গাজীপুর থেকে উত্তরায় যাওয়ার জন্য বাসে উঠেন। এক কিলোমিটার এলাকায় ভোগড়া পর্যন্ত আসার পর যানজটের কবলে পড়েন। বাসে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর কোন কূল কিনারা করতে না পেরে তিনি পায়ে হেঁটেই রওয়ানা হন। রাত আড়াইটাই তিনি হেঁটে বাসায় পৌঁছান।

শ্রীপুর উপজেলা হাসপাতাল মালিক সমিতি’র সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক জানান, শ্রীপুরের হাসপাতাল গুলোতে জরুরী বিভাগে রোগী আগে ঢাকায় পাঠানো হতো। মহাসড়কের জয়দেবপর চৌরাস্তা থেকে আব্দুল্লাহপুর পর্যন্ত দীর্ঘ যানজটে পড়ে থাকতে হয় রোগীদের। তাই জরুরী বিভাগের রোগীদের এখন রাজধানী ঢাকায় পাঠানোর পরিবর্তে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেয়া হয়।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে কথা জানা যায়, ২হাজার ৪০ কোটি টাকা ব্যয় নির্ধারণ করে ২০১২ সালে বিআরটি প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। প্রকল্পটির কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০১৬সালে। কয়েক দফায় মেয়াদ ও ব্যয় বাড়িয়ে ২০১৮ সালে আনা দ্বিতীয় সংশোধনীতে প্রকল্পে ব্যয় দ্বিগুণ বেড়ে দাঁড়ায় ৪হাজার ২৬৮ কোটি টাকায় এবং সময় বাড়ানো হয় ২০২২সালের জুন পর্যন্ত। তবে এ সময়ের মধ্যে প্রকল্পের অর্ধেক কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

সরেজমিন দেখা যায়, বিআরটি প্রকল্পের কাজ শুরুর পরই অপরিকল্পিত কাজ, বিভিন্ন বিভাগের সাথে সমন্বয়হীনতা, যানজট কমানোর কোন পদক্ষেপ বা বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা সৃষ্টি করতে না করেই প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ায় রাজধানীর উত্তরের জেলাগুলোর মানুষ কয়েকবছর ধরেই ভোগান্তি পোহাচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষায় জলাবদ্ধতায় ভোগান্তি বেড়েছে কয়েকগুণ।

সড়কের বিভিন্ন অংশে যানবাহন আটকে থাকছে ঘন্টার পর ঘন্টা। বৃষ্টির পানিতে সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় জলজটেরও সৃষ্টি হচ্ছে। চলতি মাসের প্রথম থেকেইে ১২কিলোমিটার এই সড়ক যেন মানুষের গলার কাটা হয়ে দাড়িয়েছে। টঙ্গী থেকে চেরাগআলী,সাতাইশ,বোর্ডবাজার, গাজীপুরা, ষ্টেশন রোড,চৌধুরী বাড়ী, তারগাছ, ঢাকা বাইপাস মোড় ও ভোগড়া এলাকায় সড়কে খানাখন্দ বেশী। বিশেষ করে টঙ্গী থেকে জয়দেবপুর পর্যন্ত সড়কের উভয় পাশে ড্রেন নির্মাণ কাজ চলমান হওয়ায় মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে।

ধীরগতির উন্নয়ন কাজ,সিংহভাগ সড়ক দখল করে নির্মানযজ্ঞ, সড়েকর মধ্যেই নির্মাণ সামগ্রী রাখা, ধীরগতির কাজ, কয়েকস্থানে এক লেনের সড়কে অধিক যানবাহনের চাপেও যানজটেরও সৃষ্টি হচ্ছে। অসহনীয় এ যানজটে গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্প কারখানায় সময়মতো পণ্য পরিবহনেও প্রতিবন্ধকতা তৈরী হচ্ছে।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক, উত্তর) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, মূলত গাজীপুরা থেকে টঙ্গী ব্রিজ পর্যন্ত সড়ক খানাখন্দে ভরা। পানি নিস্কাশনের কোন ব্যবস্থা নেই। সাথে উন্নয়ন কাজ চলমান। অধিকাংশ স্থানে সড়ক বিভাজন নেই। সামান্য বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার শিকার হয়ে যানবাহন আটকে পড়ছে। আমরা সীমিত জনবল দিয়ে কোনভাবেই সড়কের এই অংশে নিয়ন্ত্রণ আনতে পারছি না।

তিনি আরো বলেন, এই সড়কে কোন ধরনের শৃঙ্খলা নেই। কাজ চলমান থাকায় একদিকে সড়ক সরু হয়ে পড়ছে। অপরদিকে অধিক যানবাহনের চাপে ঘন্টার পর ঘন্টা যানজটের তৈরী হয়েছে ।

এ বিষয়ে বিআরটি প্রকল্প পরিচালক এএসএম ইলিয়াস শাহ বলেন, প্রকল্প শুরুর পূর্বে বিকল্প সড়ক নির্মাণের সুযোগ না থাকায় ডাইভারশন সড়ক নির্মাণ করা যায়নি। তবে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা ও করোনা মহামারীর মধ্যেও আমরা ইতিমধ্যেই প্রকল্পের ৬০ভাগ কাজ সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছি। কোন অঘটন না ঘটলে নির্ধারিত সময়ে আগামী এক বৎসরের মধ্যেই কাজ শেষের আশা রয়েছে।

জলাবন্ধতা ও যানজটের বিষয়ে তিনি আরো বলেন, টঙ্গীসহ দু’একটি স্থানে নির্মাণ কাজের জন্য সামান্য প্রতিবন্ধকতা তৈরী হয়েছে। আমরা এসব স্থানে দ্রুত কাজ করছি। চলতি মাসেই এ কাজ সম্পন্ন হলে আশা করছি আর যানজট হবে না।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2021 anondobarta24.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com