সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৪৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মহসিন মার্কেটে ভুয়া কমিটির পরিচয়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ প্রতিবাদ করায় ব্যবসায়ী নেতার ওপর হামলা; সংবাদ সম্মেলন অভিযোগ একাই নদী পরিষ্কার করে তাক লাগিয়ে দিলেন যুবক, পেলেন বিদেশি প্রতিষ্ঠানে চাকরি এক্সপ্রেসওয়েতে মরদেহ: মেয়ের বিয়ের জন্য জমি বিক্রির টাকা নিয়ে ফিরছিলেন ইসমাইল প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতেও শান্তি নেই ওদের নতুন দায়িত্ব পেলেন ৩০ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও হুইপ, গেজেট প্রকাশ সাংবাদিক এম মিরাজের মৃত্যুতে বরিশালের মিডিয়া পাড়ায় শোকের ছায়া সাংবাদিকরাই হবেন তথ্য কমপ্লেক্সের প্রথম ব্যবহারকারী: তথ্যমন্ত্রী বাংলাদেশ নিয়ে আমরা ছিনিমিনি খেলতে পারিনা-আইন মন্ত্রী বরিশাল সাংবাদিক ফোরামের নতুন কমিটি গঠন বাকেরগঞ্জে জমির দ্বন্দ্বে হামলা-মামলার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ভাতিজার বিরুদ্ধে চাচার সংবাদ সম্মেল

অবৈধভাবে কিডনি কেনা বেচার সংঘবদ্ধ চক্রের ৫ জনকে আটক করেছে র‌্যাব

ডেক্স নিউজ
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১২ অক্টোবর, ২০২১
  • ১৮৬ বার

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অবৈধভাবে কিডনি কেনা বেচার সংঘবদ্ধ চক্রের অন্যতম হোতা ও ফেসবুক পেজ এ্যাডমিন মোঃ শাহরিয়ার ইমরানসহ ৫ সদস্য’কে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। প্রতারণার মাধ্যমে মানবদেহের কিডনিসহ নানাবিধ অঙ্গের অবৈধ ট্রান্সপ্লান্টেশনের সাথে সক্রিয় রয়েছে কয়েকটি চক্র।

 

এসব চক্রের ফাঁদে প্রলুব্ধ হয়ে অসহায় নিম্ন আয়ের মানুষ ক্ষেত্র বিশেষ গ্রাহকরাও প্রতারিত হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত মধ্যরাত হতে আজ মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত র‌্যাব-৫, র‌্যাব-২ ও র‌্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা এর যৌথ অভিযানে জয়পুরহাট এবং রাজধানীর নর্দা হতে কিডনি ক্রয়-বিক্রয় সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতা মোঃ শাহরিয়ার ইমরান আহম্মেদ (৩৬), হবিগঞ্জকে আটক করে এবং তার সহযোগী মোঃ মেহেদী হাসান (২৪), কুমিল্লা এবং মোঃ সাইফুল ইসলাম (২৮), চাঁদপুর, মোঃ আব্দুল মান্নান (৪৫), এবং মোঃ তাজুল ইসলাম @ তাজু (৩৮), জয়পুরহাটদের’কে গ্রেফতার করা হয়।

 

উক্ত অভিযানে ভুক্তভোগী কিডনি দাতাদের ৪টি পাসপোর্ট, মেডিকেল চিকিৎসার জন্য পাসপোর্ট এবং ভিসা সম্পর্কিত বেশকিছু কাগজপত্র, ৫টি মোবাইল এবং দেশী বিদেশী মুদ্রা জব্দ করা হয়।

 

গ্রেফতারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, তাদের চক্রের মোট সদস্য সংখ্যা ১৫-২০ জন এবং তারা ৩টি ভাগে বিভক্ত হয়ে অবৈধ এই কিডনি ক্রয়-বিক্রয় এর সম্পূর্ণ কার্যক্রম সম্পন্ন করে থাকে। চক্রের ১ম গ্রুপ ঢাকায় অবস্থান করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিডনি ট্রান্সপ্লান্টেশন প্রয়োজন এমন বিত্তশালী রোগীদের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে। চক্রের ২য় দলটি ১ম দলের চাহিদা মোতাবেক দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের গরীব ও অভাবী মানুষদের চিহ্নিত করে এবং তাদের অর্থনৈতিক দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে অর্থের বিনিময়ে কিডনি ট্রান্সপ্লান্টেশন এর জন্য ডোনার হতে প্রলুব্ধ করে ঢাকায় নিয়ে আসে।

 

পরবর্তীতে ৩য় অন্য একটি দল প্রলোভনের শিকার ভুক্তভোগী কিডনি ডোনারদের ঢাকায় বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কিডনি ট্রান্সপ্লান্টেশন রোগীর সাথে রক্ত ম্যাচিং এবং অন্যান্য পরীক্ষা নিরিক্ষা সম্পন্ন করে।

 

ম্যাচিং এবং অন্যান্য ডায়াগনস্টিক টেস্টে কিডনি ট্রান্সপ্লান্টেশন এর উপযুক্ততা নিশ্চিত হলে, তার পাসপোর্ট, ভিসা প্রসেসিং এবং ভূয়া কাগজপত্র তৈরির মাধ্যমে ভূক্তভোগী ডোনারকে পার্শ্ববর্তী দেশে পাঠানোর জন্য প্রস্তুত করে। এই চক্রের সাথে পার্শ্ববর্তী দেশে অবস্থানকারী আরেকটি চক্র পারস্পরিক যোগসাজশে ভূক্তভোগী কিডনি ডোনারকে বিদেশের এয়ারপোর্ট অথবা স্থলবন্দরে রিসিভ করা থেকে শুরু করে হাসপাতালের ডকুমেন্টেশন, অস্ত্রপচারসহ যাবতীয় কার্যক্রম শেষে ভিকটিমদের বৈধ/অবৈধ উপায়ে বিমান বা উত্তর পূর্বাঞ্চলের সীমান্ত এলাকার মাধ্যমে দেশে ফেরত পাঠায়।

 

প্রতিটি কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য তারা রোগীদের নিকট হতে ১৫ হতে ২০ লাখ টাকা গ্রহণ করতো। বিপরীতে তারা কিডনি ডোনারকে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা দেওয়া হবে বলে আশ্বস্ত করে এবং অগ্রীম ২ লাখ টাকা প্রদান করতো। কিডনি ট্রান্সপ্লান্টেশন এর পর প্রলোভনের শিকার কিডনি দাতাদের প্রতিম্রুতি অর্থ না দিয়ে নানাবিধ ভয়ভীতি প্রদর্শন করতো। চক্রের মূল হোতা ইমরান প্রতিটি কিডনি ট্রান্সপ্লান্টেশন বাবদ ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা এবং মান্নান ও তাজুল প্রতি কিডনি দাতা সংগ্রহ বাবদ যথাক্রমে ৫ লাখ এবং ৩ লাখ টাকা গ্রহণ করত।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2021 anondobarta24.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com