মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১১:০২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
জাপানে শক্তিশালী ভূমিকম্পে বিস্ফোরণ-ধস-আগুন, বহু হতাহতের আশঙ্কা জনগনের ওপরে যারা ক্ষমতা প্রদর্শন করবে তারা দলের শত্রু : তথ্যমন্ত্রী ফিলিস্তিনের সেই কিশোরীকে স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর আবেগঘন বার্তা বরিশাল রেড ক্রিসেন্টে চিকিৎসকের অবহেলায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ বরিশালে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেত্রীর গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে ত্রিমুখী সংঘর্ষে রিকসা চালক নিহত, আহত-১০ আন্দোলনে সমর্থন দেয়ার পরদিনই ছাত্রদের ঘরে ফেরার বার্তা সালমান খানের পদত্যাগ করলেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন মৌলভীবাজারে জলপ্রপাতে আটকা পড়া ১০ পর্যটক উদ্ধার গৌরনদীর মহিলা মাদ্রাসার আবাসিক রুম থেকে ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার

ডিজিটাল ডিভাইড ঘোচাতে অসাধারণ উদ্যোগ হাবিপ্রবি শিক্ষকের

মুরাদ হোসেন, হাবিপ্রবি
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২১
  • ৬১৯ বার

করোনা মহামারী পরিস্থিতির কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার সময়ে প্রায় ১০ হাজারের মতো হাবিপ্রবি শিক্ষার্থী ৪০ হাজারেরও বেশি অনলাইন কোর্সে ভর্তি হয়েছে এবং ৭০ হাজারের মত পাঠ শেষ করেছে ৫০ হাজার ঘন্টারও বেশি পড়াশোনা করে।

 

আর এই পুরো ব্যাপারটি সম্ভব হয়েছে একমাত্র হাবিপ্রবির ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোঃ জুয়েল আহমেদ সরকারের নিরলস চেষ্টার মাধ্যমে। তার এই অসাধারণ উদ্যোগ গ্রহণ করার কারণে উত্তরবঙ্গের প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা Harvard, MIT, Stanford এর মতো ২০০টির বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং Google, Microsoft এবং IBM এর মত বিশ্বের সেরা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ৪০০০-এর বেশি কোর্স সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করার সুযোগ পেয়েছে ‘Coursera’ ‘edx’ Udemy, DataCamp এর মতো কয়েকটি Massive Open Online Course (MOOCs) প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে।

 

উন্মুক্ত এই প্ল্যাটফর্মগুলোর সুবিধাদি শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দিতে জুয়েল আহমেদ সরকার Bangladesh Open Learning Society নামে ১০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীর সমন্বয়ে গড়ে তুলেছেন ফেইসবুক ভিত্তিক একটি লার্নিং কমিউনিটি।

অধ্যাপক মোঃ জুয়েল আহমেদ সরকারের কাছে তার এই অসাধারণ উদ্যোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের ধারণা আমরা কেবল বুঝতে শুরু করেছি এবং এর মধ্যেই অনেক শিল্পোন্নত দেশে চলছে পঞ্চম শিল্পবিপ্লব নিয়ে প্রস্তুতি।

 

প্রযুক্তির পরিবর্তনের দ্রুত গতির সাথে সাথে আমাদের কর্মবাজার সহ উন্নয়নের বিভিন্ন দিক ব্যাপক পরিবর্তিত হচ্ছে। প্রযুক্তিগত দক্ষতায় পিছিয়ে থাকলে তৈরি হতে পারে ডিজিটাল ডিভাইড।

 

এগিয়ে থাকতে তাই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি প্রযুক্তির সর্বশেষ দক্ষতাগুলো থাকতে হবে নখদর্পণে। বিশ্বব্যাপী এই দক্ষতাগুলো ছড়িয়ে দেয়ার জন্য Harvard, MIT-এর মতো বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বেশ ভালো কিছু প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে। আমি শুধু ওইগুলোর সাথে আমাদের শিক্ষার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিতে চেয়েছি। আর উত্তরের জনপদে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জ্ঞান ছড়ানোর বাতিঘর হলো হাবিপ্রবি। আমি মনে প্রাণে বিশ্বাস করি বাংলাদেশে প্রযুক্তিগত বৈষম্য (ডিজিটাল ডিভাইড) কমানোর ক্ষেত্রে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দারুণ কিছু করে দেখাতে পারে।”

 

তিনি আরো জানান, “করোনার আগে বাংলাদেশের অধিকাংশ শিক্ষার্থীর কাছেই অনলাইন কোর্সের ব্যাপারটা এতো পরিচিত ছিলো না। অধিকন্তু, উত্তরবঙ্গে এমন অনেক শিক্ষার্থী আছে যাদের ইন্টারনেট চালানোয় তেমন দক্ষতা নাই।”

 

শিক্ষার্থীদেরকে অনলাইন দুনিয়ার উন্মুক্ত শিক্ষায় সম্পৃক্ত করার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “প্রথমে ব্যাপারটা ছিলো খুব কঠিন। অনলাইনে কোর্স কি? আর এটি কিভাবে করা যায় এবং এই কোর্সগুলো কি কাজে লাগতে পারে; এটা বুঝাতেই অনেক সময় লেগেছে। করোনা মহামারী চলাকালীন সময়টাতে প্রায় সারাদিন এবং কোন কোন সময় রাত জেগে অনলাইনে থাকতে হয়েছে আমাকে। ফেইসবুক লাইভ, ওয়ার্কশপের মতো নানা ধরণের কার্যক্রমের মাধ্যমে উন্মুক্ত শিক্ষার বিষয়গুলো শিক্ষার্থীদেরকে বোঝাতে হয়েছে।

 

শিক্ষার্থীদেরকে অনলাইন লার্নিং বিষয়েও বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দিতে হয়েছে। এই পুরো কাজটি আমার পক্ষে একা করা কোনোভাবেই সম্ভব ছিলো না। আমি আমার সহকর্মীদের সহায়তা পেয়েছি এবং পাশাপাশি হাবিপ্রবির একঝাঁক তরুণ মেধাবী শিক্ষার্থী পুরো ব্যাপারটিতে দারুণভাবে আমাকে সহায়তা দিয়েছে। এমনও হয়েছে কোর্সে অন্তর্ভুক্তির শেষ তারিখে আমরা সারারাত জেগে অনলাইনে থেকে শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করেছি। তবে এত কষ্টের পরেও আমি দারুণ খুশি।

 

একটা সুযোগ পেলে যে আমাদের শিক্ষার্থীরা অনেক কিছুই করে দেখাতে পারে এই সময়টাতে বেশ ভালোভাবে উপলব্ধি করেছি।

 

অধ্যাপক মোঃ জুয়েল আহমেদ তার ভবিষ্যত পরিকল্পনা সম্পর্কে জানান, “প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ আমাদের সামনে অবারিত সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে এবং এর জন্য প্রয়োজন প্রতিনিয়তই শেখা; যেটাকে লাইফ লং লার্নিং বলা হয়ে থাকে।

 

তাই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি উন্মুক্ত শিক্ষার প্ল্যাটফর্মগুলোর বিকল্প নাই। আমার ইচ্ছা আছে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের সকল শিক্ষার্থী; বিশেষত প্রান্তিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদেরকে এই সুযোগগুলোর সাথে বেশি করে সম্পৃক্ত করা।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2021 anondobarta24.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com