মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১১:০৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
জাপানে শক্তিশালী ভূমিকম্পে বিস্ফোরণ-ধস-আগুন, বহু হতাহতের আশঙ্কা জনগনের ওপরে যারা ক্ষমতা প্রদর্শন করবে তারা দলের শত্রু : তথ্যমন্ত্রী ফিলিস্তিনের সেই কিশোরীকে স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর আবেগঘন বার্তা বরিশাল রেড ক্রিসেন্টে চিকিৎসকের অবহেলায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ বরিশালে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেত্রীর গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে ত্রিমুখী সংঘর্ষে রিকসা চালক নিহত, আহত-১০ আন্দোলনে সমর্থন দেয়ার পরদিনই ছাত্রদের ঘরে ফেরার বার্তা সালমান খানের পদত্যাগ করলেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন মৌলভীবাজারে জলপ্রপাতে আটকা পড়া ১০ পর্যটক উদ্ধার গৌরনদীর মহিলা মাদ্রাসার আবাসিক রুম থেকে ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার

হবিগঞ্জে মন্দিরে রহস্যজনক মুর্তি ভাংচুর

শামিম পাভিন, হবিগঞ্জ
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২১
  • ৩৬৫ বার

হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার মোড়াকড়ি গ্রামে হিন্দু মন্দিরে রহস্যজনক মুর্তি ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে সংঘ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

 

প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসীর সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে ওই গ্রামের জেলে পাড়ায় একটি অস্থায়ী মন্দিরে শ্যামা ও লোকনাথ নামক দুটি মুর্তি কে বা কারা বেদি থেকে সরিয়ে মাটিতে উপুর করে ফেলে রাখে। রাত সোয়া ৯টার দিকে ওই গ্রামের ব্যবসায়ী সজল দাস মন্দিরে ভক্তি দিতে এলে মুর্তিগুলো মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেন।

 

তিনি মন্দিরের সেবায়েত সুমেশ দাশ সহ পাশ্ববর্তী বাড়ীর লোকজনকে ডেকে আনেন। লোকজন জড়ো হয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ফয়সল মোল্লাকে খবর দেন। চেয়ারম্যান ঘটনাস্থলে এসে লাখাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লুসিকান্ত হাজং ও থানার ওসি মোঃ সাইদুল ইসলামকে মোবাইলে অবগত করেন। তাৎক্ষনিক তারা ঘটনাস্থলে পৌছেন।

 

পরে ওই রাতেই পূজারীরা সিদ্ধান্ত নিয়ে মুর্তি দুটি পার্শ্ববর্তী বলভদ্র নদীতে বিসর্জন দেন। এদিকে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে নানা গুজবের ডালপালা মেলতে থাকে।

 

সরজমিনে গিয়ে জানা যায়, ওই পাড়ার অধিকাংশ বাসিন্দারা হিন্দু জেলে সম্প্রদায়ের। স্থানীয়রা জানান, গত দুই বছর যাবত সুমেশ দাস ও জগবন্ধু দাসের বাড়ির মধ্যখানে এই মন্দিরটি স্থাপন করে পুজো করে আসছেন। এখনো কোন স্থায়ী অবকাঠামো নির্মান করা হয়নি। চাপটা ঘরের মন্দিরটিতে কোন দরজা জানালা নেই।

 

প্লাষ্টিকের চালা দিয়ে এর সামনের অংশ ঢেকে রাখা হয়েছে। মন্দিরের পাশ দিয়ে উত্তর দক্ষিনমুখি একটি পায়ে চলাচলের রাস্তা রয়েছে। পাশেই ঘরের বসবাস করেন সেবায়েত সুমেশ দাস। তিনি বলেন, ঘটনার রাতে তিনি বাড়িতে ছিলেন। তিনি বা তার পরিবারের কেউ মুর্তি ভাংচুর বা হইহুল্লোরের কোন শব্দ পাননি। পার্শ্ববর্তী বাড়ির লোকজনও একই কথা জানান। তারা আরো জানান, কুমিল্লার ঘটনার সময়েও এলাকায় কোন উত্তেজনা ছিল না। দীর্ঘদিন ধরেই পাশ্¦বর্তী পাড়ার মুসলমান সম্প্রদায়ের সাথে তারা শান্তিুপুর্ন সহবস্থান করছেন।

 

পুজা পার্বনে তাদের সহযোগিতা পাচ্ছেন। শুক্রবার রাতের ঘটনাটি তাদেরও রহস্যজনক মনে হচ্ছে। শনিবার দুপুরে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার এস এম মুরাদ আলি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি সেবাইত সহ হিন্দু সম্প্রদায়ের স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সাথে প্রায় ৪০ মিনিট আলাপ করেন।

 

ফেসবুকে সম্প্রতি বিনষ্টকারি মিথ্যা অপপ্রচার সম্পর্কে সচেতন থাকার জন্য তিনি উপস্থিত সকলে আহবান জানান। ঘটনাস্থলে এ বিষয়ে মন্তব্য চাওয়া হলে পুলিশ সুপার কোন কিছু বলতে রাজি হননি। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হযেছে। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার লোকজনকে খোজ খবর নিতে দেখা গেছে।

 

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোন মামলা বা কেউ আটক হয়নি বলে জানিয়েছেন লাখাই থানার ওসি সাইদুল ইসলাম।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2021 anondobarta24.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com