মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৬:১৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ফিলিস্তিনের সেই কিশোরীকে স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর আবেগঘন বার্তা বরিশাল রেড ক্রিসেন্টে চিকিৎসকের অবহেলায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ বরিশালে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেত্রীর গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে ত্রিমুখী সংঘর্ষে রিকসা চালক নিহত, আহত-১০ আন্দোলনে সমর্থন দেয়ার পরদিনই ছাত্রদের ঘরে ফেরার বার্তা সালমান খানের পদত্যাগ করলেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন মৌলভীবাজারে জলপ্রপাতে আটকা পড়া ১০ পর্যটক উদ্ধার গৌরনদীর মহিলা মাদ্রাসার আবাসিক রুম থেকে ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬ এগিয়ে এসে মেসিকে জড়িয়ে ধরলেন ইয়ামাল, হৃদয় ছুঁয়ে গেল দুই প্রজন্মের আলিঙ্গন

২৬৯ বছরের যে মন্দির, ইতিহাস ও সময়ের স্বাক্ষী

মুরাদ হোসেন, পাবনা
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১২ জানুয়ারী, ২০২৩
  • ৩০২ বার
পাবনা পৌর সদরের কালাচাঁদপাড়া মহল্লায় জোড় বাংলা মন্দির। ছবি- মুরাদ হোসেন
“এসেছি বাঙালি পাহাড়পুরের বৌদ্ধবিহার থেকে, এসেছি বাঙালি জোড়বাংলার মন্দির বেদি থেকে” সৈয়দ শামসুল হক রচিত ‘আমার পরিচয়’ কবিতাংশের এ লাইন দুখানি থেকে যে মন্দিরটির নাম জেনেছি তারই কথা বলছি।
ইতিহাস আর ঐতিহ্যের লীলাভূমি পাবনার প্রাচীন স্থাপনাশিল্পের অন্যতম প্রধান ঐতিহাসিক নিদর্শন জোড় বাংলা মন্দির(or Bangla Mandir)। এটি পাবনার অন্যতম আকর্ষণ। অবস্থান পাবনা শহর থেকে দুই কিলোমিটার দূরে উত্তর-পূর্বদিকে পাবনা পৌর সদরের কালাচাঁদপাড়া মহল্লায়।
সতেরো কিংবা আঠারো শতক থেকে স্বকীয় সত্ত্বা নিয়ে খোলা জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে জোড় বাংলা মন্দির। এই মন্দিরের অভ্যন্তরে কোনো শিলালিপি নেই; যার কারণে এর নির্মাণ সাল, নির্মাতা সম্পর্কে কোনো সঠিক তথ্য পাওয়া যায় না। জনশ্রুতি আছে আঠারো শতকের মাঝামাঝি সময়ে ব্রজমোহন ক্রোড়ী নামক একজন ‘জোড় বাংলা মন্দির’ নির্মাণ করেন, যিনি ছিলেন মুর্শিদাবাদ নবাবের তহশিলদার।
জোড় বাংলা মন্দিরকে খোলা জায়গায় একটি বেদীর উপরে স্থাপন করা হয়েছে। মন্দিরটির আকর্ষণীয় দিক হলো এর ছাদ। মন্দিরটির ছাদ দোচালা প্রকৃতির। মন্দিরের সামনে রয়েছে তিনটি প্রবেশ পথ যা দুটি স্তম্ভের সাহায্যে নির্মাণ করা হয়েছে। পূর্বে এর প্রবেশপথ কারুকার্যমন্ডিত টেরাকোটায় পরিপূর্ণ ছিল কিন্তু এখন তা আগের মতো নেই।
জানা গেছে ১৮৯৭ সালের ভূমিকম্পে এই মন্দিরের বেশ ক্ষয় হয়। তাছাড়া কালের পরিক্রমায় মন্দিরটি সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছে।
পূর্বে এর অবকাঠামো ছিল শক্তপোক্ত ও সুদৃঢ়। টেরাকোটা, কারুকার্য, অভ্যন্তরীণ নকশা দেখে অনেকেই এই মন্দিরটিকে দিনাজপুরের কান্তজিউ মন্দিরের সাথে তুলনা করতেন।
এই মন্দিরের প্রথম চালাবিশিষ্ট ঘরে পূজা-অর্চনা করা হতো এবং দ্বিতীয় চালার ঘরটি বারান্দা হিসেবে ব্যবহৃত হতো। বর্তমানে বাংলাদেশ সরকারের প্রত্মতত্ব অধিদপ্তরের হাতে জোড় বাংলা মন্দিরের তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
সপ্তদশ শতকে মন্দিরের নকশায় জোড় বাংলা নামের স্থাপত্যশৈলী লক্ষ্য করা যায়। স্থাপত্যের স্থায়িত্বের কথা চিন্তা করে ছাদে দুটি চালাকে একসাথে জোড়া দিয়ে দেয়া হতো।তাই একে জোড় বাংলা বলা হতো এবং এখনো বলা হয়। পাবনার ‘জোড় বাংলা মন্দির’ গোপীনাথের মন্দির বলেও পরিচিত ছিল।
কারো কারো মতে পূর্বে এখানে নিয়মিত পূজা হতো। অভ্যন্তরে গোপীনাথের মূর্তি, রাধা- কৃষ্ণের মূর্তি ছিল। অন্যমতে এই মন্দিরের অভ্যন্তরে কখনো পূজা অর্চনা হতো না। এটি কেবল পরিত্যক্ত স্থাপনা কিংবা মঠ হিসেবেই দাঁড়িয়ে ছিল খোলা স্থানে।
তবে এই মন্দিরটি ভাস্কর্য শিল্পের উজ্জ্বল উদাহরণ বলাই যায়। মন্দিরটির পোড়া মাটির ইট দিয়ে কারুকার্য খচিত নকশা দারুণভাবে আকর্ষণ করে দর্শনার্থীদের। তবে ইমারতের ভেতরের কক্ষগুলো অপ্রশস্ত।
১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর অবহেলায় পড়ে ছিল এই মন্দিরটি। পরবর্তীতে পাবনা জেলা প্রশাসকের প্রচেষ্টায় ১৯৬০ সালে এই মন্দিরের আমূল সংস্কার করা হয়। বর্তমানে স্থানীয় শিশু কিশোরদের নিয়মিত খেলাধুলার জায়গায় পরিণত হয়েছে মন্দির প্রাঙ্গণটি ।
মন্দিরটি ইতিহাস ও সময়ের স্বাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। প্রতিবছর অসংখ্য পর্যটক এই মন্দির দেখতে আসেন। এর বড় একটি কারণ এটি প্রায় ২৬৯ বছরের স্থাপত্যশৈলী নিয়ে আজও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে রয়েছে পাবনার কালাচাঁদপাড়ায়।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2021 anondobarta24.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com